চাঁদপুরের বাবুরহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে প্রায় তিন দশকেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। শিল্পনগরীটিতে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পনগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম।
জেলার আটটি উপজেলার কোথাও বিসিক উপজেলা পর্যায়ের অফিস না থাকায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও নানা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর সদরের বাবুরহাটে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে বিসিক শিল্পনগরী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৭ সালে এবং ১৯৯৮ সালে শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই বিসিকের জেলা কার্যালয় অবস্থিত। তবে যথাযথ উদ্যোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অভাবে দীর্ঘ সময়েও শিল্পনগরীটি প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে মনে করছেন সচেতন ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পপণ্যের জায়গা ক্রমেই দখল করছে প্লাস্টিকসামগ্রী। এতে ক্ষুদ্র শিল্পের সম্ভাবনা ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন জেলা পরিবেশ আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মাসুম, মো. মাসুদ আলমসহ অন্যরা।
বিসিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি দেশের একমাত্র মিনি শিল্পনগরী। এখানে মোট ৩৩টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি চালু এবং ছয়টি বন্ধ বলে জানিয়েছেন বিসিক জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শিল্প কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার খান।
তবে শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, একসময় চালু থাকা বেশ কয়েকটি কারখানা এখন বন্ধ। কোথাও কোথাও কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ, আঙিনায় জমেছে শুকনো পাতা, চারপাশে গজিয়েছে ঝোপঝাড়। উৎপাদন ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকার কথা যে শিল্পাঞ্চলের, সেখানে অনেক জায়গায় বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
চালু কারখানার কয়েকজন কর্মচারী ইউএনবিকে জানান, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করেও অনেক প্রতিষ্ঠান লাভের মুখ দেখতে পারেনি। লোকসানের কারণে জুস কারখানাসহ কয়েকটি শিল্প ইউনিট একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বহু শ্রমিক।